ডায়াবেটিস রোগীর নানারকম চোখের সমস্যা

(১) কমবয়সে #ছানি পড়া (Cataract), (২) চোখে বারবার ইনফেকশান বা সংক্রমণ হওয়া, (৩) #অক্ষিপট বা রেটিনার সমস্যা, (৪) চোখের পাওয়ার ঘনঘন কমাবাড়া, (৫) গ্লুকোমাতে আক্রান্ত হবার ঝুকি বাড়া।
এর মধ্যে সবচাইতে মারাত্মক হল ডায়াবেটিক #রেটিনোপ্যাথি। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের রোগীদের বেশিরভাগ ও টাইপ টু-তে আক্রান্তদের ষাট শতাংশ রোগ শুরু হবার ২০ বছর বা তারও আগে #ডায়াবেটিস রোগের কারণে রেটিনার সমস্যায় আক্রান্ত হন। উন্নত দেশগুলোতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ৩০-৬৫ বছর বয়স্ক মানুষের অন্ধ হয়ে যাবার সবচাইতে বড় কারণ। ডায়াবেটিসের রোগীর বেশি বয়সে #দৃষ্টিহীন হয়ে যাবার আশঙ্কা সুস্থ মানুষের তুলনায় পাঁচ থেকে পচিশগুণ বেশি।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি : অনিয়ন্ত্রিত রক্তের সুগার উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালী ও রক্তজালিকাগুলোর ক্ষতি করে। এগুলো স্বাভাবিকের চাইতে দুর্বল হয়ে পড়ে। নতুন নতুন রক্তনালী তৈরি হয় যেগুলো খুব ভঙ্গুর। এই রক্তনালীগুলো সহজেই ছিড়ে যায়। এর ফলে রেটিনার ভেতরদিকে রক্তক্ষরণ হয়। নতুন রক্তনালীর পাশাপাশি আগেকার রক্তনালীগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম যোগাযোগ তৈরি হয়। সূক্ষ্ম শিরাগুলো স্ফীত হয়ে এঁকেবেঁকে যায়। রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালী থেকে প্লাজমার একটা অংশ (Exudate) বাইরে বেরিয়ে আসে। ফলে রেটিনাতে জল জমে। রক্তক্ষরণ খুব বেশি হলে রক্ত চোখের ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠে ছড়িয়ে গিয়ে হঠাৎ করে #দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রোগের প্রথম পর্যায়ে রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়। এই সময় দৃষ্টিশক্তি থাকে স্বাভাবিক। দ্বিতীয় পর্যায়ে রেটিনার নির্দিষ্ট অংশ ম্যাকুলাতে জল জমে। এই সময় থেকে দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। তৃতীয় পর্যায়ে নতুন রক্তনালী তৈরি হয়, রক্তনালী ছিড়ে রেটিনার ভেতরদিকে রক্তপাত হয়। এই রক্ত ভিট্রিয়াস প্রকোষ্ঠে চলে গেলে দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ করে পুরোপুরি লোপ পেতে পারে।

প্রতিরোধ— 
ডায়াবেটিস রোগে রক্তের #সুগার ও উচ্চ রক্তচাপ (যদি থাকে)-কে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথির আশঙ্কা অনেকটা কমে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি প্রতিরোধের জন্য যা জরুরি তা হল—

১। রক্তের সুগার ও রক্তচাপ নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
২। অন্তত ছ’মাস বাদে বাদে #চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দিয়ে চোখ পরীক্ষা করানো।

নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো ডায়াবেটিসের রোগীদের পক্ষে বিশেষ জরুরি। কেন না রেটিনাতে পরিবর্তন শুরু হবার প্রথম পর্যায়ে রোগীর চোখে কোনও উপসর্গ থাকে না। ওই সময় ’অপথ্যালমোস্কোপ’ যন্ত্র দিয়ে রেটিনা পরীক্ষা করে দুর্বল রক্তনালীগুলোর উপস্থিতি বোঝা যায়। নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জেনন আর্ক ল্যাম্প বা লেসার দিয়ে ওই রক্তনালীগুলোকে নষ্ট করে দিলে (’‘ফোটোকোঅ্যাগুলেশন”) রেটিনাতে পরবর্তী পর্যায়ের জল জমা ও রক্তক্ষরণের আশঙ্কা কমে।

ঠিক সময়ে, অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না করালে রেটিনাতে রক্তক্ষরণ হয়ে ও রেটিনার পর্দা ছিড়ে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয়। #চিকিৎসা করেও সবসময় এরকম জটিলতা সারানো যায় না। এরকম হলে গ্লুকোমা ও দৃষ্টিহীনতা দেখা দেবার আশঙ্কা থাকে।

তথ্যসূত্র: হাতের মুঠোয় ডায়াবেটিস –ড. শ্যামল চক্রবর্তী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *